করোনার চাপ সামলাতে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ক্রয়-বিক্রয়ে ভ্যাট মুক্তির দাবি
করোনা ভাইরাস প্রভাবে অপ্রয়োজনীয় সংস্পর্শ এড়িয়ে চলছেন দেশের মানুষ। তবে জাতীয়ভাবে সংযুক্ত রয়েছেন ইন্টারনেটে। এই মাধ্যমটি এখন মানুষে মানুষে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই চলছে অফিস-ব্যবসায়। সচল অর্থনীতির চাকা। স্বাস্থ্য সেবা। বিনোদন। লেখা-পড়া।
ঘরে বসেই চলছে প্রয়োজনীয় সব কাজ। স্থবির সময়ে দেশের নাগরিকরা নিজেদেরকে সচল রেখেছেন। তাই পানি-বিদ্যুত-গ্যাসের মতো ‘জরুরী সেবা’ঘোষণার পর তা বাস্তবায়নের পাশাপাশি এই সংযোগকে আরো শক্তিশালী রাখতে দুর্যোগপূর্ণ সময়ে অন্তত ছয় মাসের জন্য হলেও ইন্টারনেট সেবাকে ভ্যাট-করের আওতামুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
ডিজিবাংলা’র সঙ্গে আলাপকালে এই খাতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ইন্টারনেট সেবাকে সকলের জন্য সুলভ রাখা এবং সম্প্রসারণের স্বার্থে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ক্রয়-বিক্রয় পর্যায়ে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট চলতি মার্চ থেকে সাময়িক সময়ের জন্য হলেও উঠিয়ে নেয়া উচিত। এতে চলমান দুর্যোগকালীন সময়ে সেবা দিতে যে বাড়তি খরচ ও চাপ পড়ছে তা পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। একইসঙ্গে খরচ বাঁচিয়ে জরুরীভাবে সেবা নেটওয়ার্কটি আরো বাড়ানো সম্ভব হবে। আর কর্পোরেট পর্যায়ের পাশাপাশি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাটি বাড়ি-বাড়ি পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়া সহজ হবে। তখন ইন্টারনেটের উৎপাদনশীতা বাড়বে। ঘর-অফিস ব্যবধান ঘুচে যাবে। করোনার মতো বিরুপ পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতেও ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবিক অর্থেই সচল রাখা সম্ভব হবে।
দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতিতে ইন্টারনেটের ওপর চাপ বেড়েছে। দেশ কার্যত সচল রয়েছে এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই। ঘরে-ঘরে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার যেমন বেড়েছে, তেমনি সেবা ব্যয়ও বেড়েছে। বেড়েছে কর্মীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি, ওভারটাইম খরচ। তাই এই মুহূর্তে যদি এই খাতটি ভ্যাট ও কর মুক্ত করা যায় তবে গ্রাহক পর্যায়ে ৩০ শতাংশ বেশি ব্যান্ডউইথ সরবরাহের পাশাপাশি অতিরিক্ত ব্যান্ডউইথ কিনতেও সহজ হবে। একই সঙ্গে সেবার মান ৩০-৪০ শতাংশ বাড়বে। পক্ষান্তরে এই ছাড় দেয়ায় সরকারের ক্ষতির চেয়ে নিট লাভই বেশি হবে।
তারা বলেছেন, ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনলাইনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জরুরি সরবরাহ অব্যাহত রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের স্বার্থেই এই মুহূর্তে ব্রডব্যান্ড সেবাটি সবার কাছে পৌঁছে দিতে ভ্যাট ও কর চাপ মুক্তির কোনো বিকল্প নেই। এটা করা হলে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিটি বাড়িকেই ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় আনা যাবে। ইন্টারনেট অধিকার সবার জন্য নিশ্চিত করে ডিজিটাল বৈষম্যও দূর করা সম্ভব হবে।